মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও যেন মাঠের বাইরের উত্তেজনা বেশি জেঁকে বসেছে। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের দামামা, অন্যদিকে দরজায় কড়া নাড়ছে ২০২৬ বিশ্বকাপ। এমন এক থমথমে পরিস্থিতির মধ্যেই নিজেদের ফুটবল দলকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানালো ইরান।
বুধবার তেহরানের ঐতিহাসিক এনঘেলাব চত্বরে লাল-কালো ট্র্যাকসুটে যখন ফুটবলাররা মঞ্চে এসে দাঁড়ান, তখন হাজারো মানুষের গগনবিদারী চিৎকারে কেঁপে ওঠে চারপাশ। তবে এই বিদায় অনুষ্ঠান কেবল খেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, এতে মিশে ছিল কড়া রাজনৈতিক বার্তা।
আমেরিকার মাটিতেই কি জবাব দেবে ইরান?
২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র—যাদের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংঘাত সর্বজনবিদিত। ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদি তাজ সরাসরিই বললেন, ‘বিশ্বকাপে আমাদের এই খেলোয়াড়রা কেবল মাঠের প্রতিনিধি নয়; তারা দেশের মানুষ, যোদ্ধা এবং আমাদের নেতৃত্বের প্রতিনিধি। এটি হলো যুদ্ধের সময়ের এক ফুটবল দল।’
প্রতিরোধের প্রতীক যখন ফুটবল
অনুষ্ঠানে আসা সমর্থকদের হাতে ছিল পতাকা আর প্ল্যাকার্ড। অনেকের হাতে ছিল প্রয়াত নেতা আলি খামেনির ছবি। একটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল— ‘শহিদদের রক্তের সম্মানে কোনো দ্বিধা ছাড়াই বুক ফুলিয়ে জাতীয় সংগীত গাও।’ খেলার মাঠকে ইরান যে তাদের জাতীয় মর্যাদা ও প্রতিরোধের বড় এক মঞ্চ হিসেবে দেখছে, তা এই আয়োজনেই স্পষ্ট।
বিশ্বকাপ মিশন ও সূচি
এবারের বিশ্বকাপে ইরান খেলবে ‘জি’ গ্রুপে। যেখানে তাদের লড়তে হবে বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড ও মিশরের মতো কঠিন প্রতিপক্ষের সঙ্গে। টুর্নামেন্ট চলাকালীন অ্যারিজোনার টাকসনে তাবু গাড়বে ইরান দল।
আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে ইরানের বিশ্বকাপ অভিযান। এখন দেখার বিষয়, মাঠের বাইরের এই রাজনৈতিক উত্তেজনা খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগায় নাকি চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
