শুক্রবার গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে সহজ জয় এনে দিতে ৪৪ বলে ৮১ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছেন বিরাট কোহলি। ভারতের এই ব্যাটিং স্তম্ভের এমন পারফরম্যান্স আরও একবার মনে করিয়ে দিল যে, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেকে বদলে নিতে তিনি কতটা দক্ষ।
এই মৌসুমে ৭ ইনিংস শেষে কোহলির সংগ্রহ ৩২৮ রান। বর্তমানে অরেঞ্জ ক্যাপটি তার দখলে। তবে সবচেয়ে নজরকাড়া বিষয় হলো তার স্ট্রাইক রেট, যা ১৬৩-এর উপরে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এটি বড় ধরনের উন্নতি।
আরসিবি-তে কোহলির একসময়ের সতীর্থ ডেল স্টেইন ইএসপিএনক্রিকইনফোর এক অনুষ্ঠানে তাকে ‘জিনিয়াস’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। মাঠের পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে কোহলির যে অসামান্য ক্ষমতা, স্টেইন মূলত তারই প্রশংসা করেছেন। একই প্ল্যাটফর্মে ইয়ান বিশপ কোহলির খেলার গতির প্রশংসা করে বলেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী তিনি যেভাবে নিজের ব্যাটিংয়ের ধরন পরিবর্তন করেন, তা সত্যিই দারুণ।
২০৬ রান তাড়া করতে নেমে শুরুতে একবার জীবন পেলেও কোহলি ছিলেন একদম শান্ত। দেবদত্ত পাড়িক্কালের সঙ্গে তার ১১৫ রানের জুটি মূলত ম্যাচটি গুজরাটের হাত থেকে কেড়ে নেয়। পাড়িক্কাল ২৭ বলে ৫৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে শুরুটা দিলেও, কোহলি নিশ্চিত করেছেন যেন শেষ পর্যন্ত কোনো বিপদ না ঘটে। পাড়িক্কালের মতে, গুজরাট ১৫-২০ রান কম করেছিল, আর কোহলি ক্রিজে থিতু হওয়ার পর সেই লক্ষ্যটি আরও সহজ হয়ে যায়।
কোহলির ক্যারিয়ারের এই পর্যায়টি বিশেষভাবে নজরকাড়া কারণ তার মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা। আগে তিনি ইনিংসের এক প্রান্ত ধরে খেলার জন্য পরিচিত ছিলেন, কিন্তু এখন সেই অভ্যাসের সঙ্গে আধুনিক টি-টোয়েন্টির মারকুটে মেজাজকেও চমৎকারভাবে যুক্ত করেছেন।
পরিসংখ্যানও সেই বিবর্তনের কথা বলছে। ক্যারিয়ারের অনেকটা সময় কোহলির স্ট্রাইক রেট ১৪০-এর আশেপাশে থাকলেও সাম্প্রতিক মৌসুমগুলোতে তা নিয়মিত বাড়ছে। ২০২৪ সালে ১৫৪.৭০ এবং ২০২৫ সালে ১৪৪.৭১-এর পর এবার তা ১৬৩ ছাড়িয়ে গেছে। ইয়ান বিশপ কোহলির এই পরিবর্তনকে ‘অসাধারণ’ বলে উল্লেখ করেছেন।
২০১৬ সালে ৯৭৩ রানের সেই রূপকথার মৌসুমের পর থেকে কোহলি আজ পর্যন্ত তার ধারাবাহিকতা হারাননি। প্রতি বছর ৪০০-এর বেশি রান করার পাশাপাশি তিনি নিজেকে আরও শাণিত করেছেন। শুক্রবারের ইনিংসটি পেশিবল বা কেবল চার-ছক্কার প্রদর্শনী ছিল না; বরং তা ছিল নিয়ন্ত্রণ ও অভিজ্ঞতার এক মিশেল।
৩৭ বছর বয়সে যখন অধিকাংশ ক্রিকেটার টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে খেই হারিয়ে ফেলেন, কোহলি তখনো তরুণদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নিজেকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন।
