আরিফ ইশতিয়াক
শেখ হাসিনা একবার বলেছিলেন, ‘আপনাদের সবার কাছে মোবাইল আছে না? এই মোবাইল কে দিয়েছে? আমরা দিয়েছি। আওয়ামী লীগ সরকার দিয়েছে।’ এই কথা শুনে সুশীল সমাজের সে কি প্রতিবাদ! তারা মোবাইল কিনেছে নিজের পকেটের টাকায়, শেখ হাসিনা কেন বললো, মোবাইল আওয়ামী লীগ সরকার দিয়েছে?
এবার আসেন বর্তমান প্রসঙ্গে।
এই যে এই লোকদের দেখছেন, কাঠফাটা রোদের মধ্যে অর্ধমৃত হয়ে ফুয়েলের জন্য পেট্রোল পাম্পে বসে আছে, এরা কিন্তু মাগনা বা ডিসকাউন্টে ফুয়েল নিতে আসেনি। পকেটে টাকা নিয়েই এসেছে। লাগলে নির্ধারিত টাকার চেয়ে বেশি টাকা দেবে। তাও পাচ্ছে না। অর্থাৎ পকেটে টাকা থাকলেই সব পাওয়া যায় না।
আমরা নিজেরা স্বয়ংসম্পূর্ণ নই। যে কোনো পণ্যের প্রয়োজন মেটাতে হলে আমাদের বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। সেটাও টাকা থাকলেই হয় না। এজন্যেও অনেক ভূরাজনৈতিক সমীকরণ থাকে, অনেক দেন-দরবার করতে হয়। তারপর সেই পণ্যটা দেশে আসে।
শেখ হাসিনা এই বিষয়টা ইঙ্গিত করেই মোবাইল ফোন দেওয়ার কথা বলেছিলেন।
একইভাবে পদ্মাসেতু এবং অন্যান্য স্থাপনাও যে শেখ হাসিনা তাঁর বাপের টাকায় না করেও ক্রেডিট নেয়, এর কারণও এটা।
টাকা থাকলেই নদীর ওপরে সেতু গড়ে ওঠে না। সেতু ওঠার জন্য সেই টাকার সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হয়। সেতু তৈরির জন্য অকল্পনীয় কর্মযজ্ঞ চালাতে হয়, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হয়। যা সবাই পারে না। শেখ হাসিনা পারতেন।
শেখ হাসিনা পারতেন বলেই শেখ হাসিনার সময়ে ফুয়েলের জন্য মানুষকে এতো কষ্ট করতে হয়নি। যুদ্ধ করে ফুয়েল কিনতে হয়নি। শেখ হাসিনা পিয়াঁজের সংকট নিরসন করেছিলেন ১০ দিনের মধ্যে। ফুয়েলের সংকট নিরসন করতেও ১০ দিনের বেশি লাগতো না। জটিল ভূরাজনৈতিক সমীকরণ মোকাবিলা করেও এতোদিনে ফুয়েলের অভাব পূরণ করতেন।
অবশ্যই সেটা শেখ হাসিনার নিজের টাকায় নয়, জনগণের টাকা দিয়েই।
কোনো সরকারই নিজের টাকায় কিছু করে না। সব সরকারই জনগণের টাকায় কাজ করে। কিন্তু জনগণের টাকা কীভাবে কাজে লাগাতে হয়- সেটা সব সরকার জানে না। বর্তমান সরকার জানলে মানুষকে এক মাসের বেশি সময় ধরে এভাবে সামান্য অকটেনের জন্য যুদ্ধ করতে হতো না।
একই প্রসঙ্গে মতিউর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা সরকার থাকলে এ মহূর্তে দেশে তেলের যে প্রবল সংকট- সেই সংকট হয়ত হতো। তবে সংকট এতো প্রবল এবং ভয়াবহ হতো না। কারণ শেখ হাসিনার ছিলো চার মাথা, দশ হাত। তিনি যখন যাকে দরকার তার সাথে ডিল করে ফেলতেন।
যেমন, তেল লাগলে রাশিয়া, ভারী যন্ত্রপাতি লাগলে চীন, চাল-ডাল লাগলে ভারত, রপ্তানিতে সংকট পড়লে ইউরোপ, শ্রমশক্তির জন্য আরব। তিনি বুঝতেন কোন তাবিজে কে বশ হয়। আর এজন্যই শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশ গভীর কোন সংকটে পড়েনি। ফলে শেখ হাসিনা ইতিহাসে অমরত্ব লাভ করবেন।
আমিনুল ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা অত্যন্ত বিচক্ষণ লিডার ছিলেন। বিশ্বব্যপী তাঁর নেটওয়ার্ক ছিলো প্রচুর। একটা উদাহরণঃ কয়লার ঘাটতিতে বিদুৎ প্লান্ট বন্ধ, প্রচুর লোডশেডিং, প্রচন্ড গরম। এদিকে ডলারের চরম অভাব। তিনি ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টকে অনুরোধ করলেন, তৎক্ষনাৎ বাকিতে কয়লা চলে এলো। প্লান্ট চালু হলো, লোডশেডিংও সহনীয় হলো।


