❐ আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারের ওপর এক অভূতপূর্ব বিপর্যয় নেমে এসেছে। মাত্র একটি ট্রেডিং সেশনে ৮০৫ বিলিয়ন ডলারেও বেশি মূলধন হাওয়া হয়ে গেছে। এই বিশাল ক্ষতির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের তীব্রতা, যা বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটিয়ে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কাকে চরমে তুলেছে।
ইরান-ইসরায়েল-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত এখন ছড়িয়ে পড়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে। হরমুজ প্রণালীতে ইরানের হুমকি ও তেল অবকাঠামোতে আক্রমণের খবরে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়েছে। ইউএস ক্রুডের দাম ৯০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে—যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ স্তর।
এই তেলের দাম বৃদ্ধি সরাসরি বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বাড়িয়েছে এবং ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নীতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
প্রধান সূচকগুলোর অবস্থা
- ডাউ জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ: প্রায় ৭৮৫ পয়েন্ট (১.৬%) কমে ৪৭,৯৫৪-এ নেমেছে। কিছু সময়ে ১,১০০ পয়েন্টেরও বেশি পড়েছিল।
- এসঅ্যান্ডপি ৫০০: ০.৫৬% থেকে ১.৩% পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।
- নাসডাক কম্পোজিট: প্রায় ০.৩% থেকে ১.৬% কমেছে।
বিমান সংস্থা, পরিবহন, উৎপাদন ও ভোগ্যপণ্য খাতের শেয়ারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা অর্থনৈতিক মন্দার ভয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে দ্রুত সরে যাচ্ছেন।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, যদি হরমুজ প্রণালী দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে বা তেল সরবরাহে বড় বিঘ্ন ঘটে, তাহলে বিশ্ব অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব পড়বে। যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে, তত বেশি অস্থিরতা বাড়বে—যা শুধু ওয়াল স্ট্রিট নয়, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়কেও চাপে ফেলবে।
বর্তমানে বাজারে অস্থিরতা চরমে। যতক্ষণ না যুদ্ধে কোনো স্পষ্ট শান্তি বা স্থিতিশীলতা দেখা যায়, ততক্ষণ এই ধসের ধারা অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্ব অর্থনীতি এখন এক অনিশ্চিত ও বিপজ্জনক অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
