নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রায় ১১ মাসের দীর্ঘ আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে সোমবার। চুক্তির ফলে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের রেসিপ্রোকাল শুল্ক ২০% থেকে কমিয়ে ১৯% করা হয়েছে—অর্থাৎ মাত্র ১% ছাড়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত কটন ও ম্যান-মেড ফাইবার ব্যবহার করে তৈরি কিছু টেক্সটাইল ও পোশাক পণ্যের জন্য শূন্য শুল্কের বিশেষ ব্যবস্থা চালু করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে স্বাক্ষর করেন ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেনটেটিভ অ্যাম্বাসেডর জ্যামিসন গ্রিয়ার। আলোচনা শুরু হয় গত বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে।
এই চুক্তি স্বাক্ষর বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা দপ্তরের অফিশিয়াল ফেসবুক পেইজ থেকে শুল্ক বিষয়ক একটি বিবৃতি দেয়া হয়। যার পুরোটা জুড়েই ছিল মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিদের বরাতে ড ইউনুস সম্পর্কে করা প্রশংসা আর স্তুতি, যেনা এটাই বাণিজ্য আলোচনার আসল অর্জন।
প্রধান উপদেষ্টার পোস্টে লেখা হয়, চুক্তি স্বাক্ষরের পর অ্যাম্বাসেডর গ্রিয়ার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, “চিফ অ্যাডভাইজার মুহাম্মদ ইউনূসের সার্বিক নেতৃত্ব এবং বাংলাদেশের আলোচনা দলের অসাধারণ প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ। এই চুক্তি বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতিতে আরও সুসংহত অবস্থানে স্থাপন করবে।”
প্রধান উপদেষ্টার অফিশিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া পেজে প্রকাশিত বিবৃতিতে এই চুক্তিকে “দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সম্পর্কের ঐতিহাসিক নতুন মাত্রা” বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন বলেন, “এই চুক্তি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরস্পরের বাজারে উল্লেখযোগ্য উন্নত প্রবেশাধিকার প্রদান করবে।”
তবে বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে যে, দীর্ঘ আলোচনার পর মাত্র ১% শুল্ক হ্রাস এবং সীমিত ছাড়ের ব্যবস্থা কতটা তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে রপ্তানি-নির্ভর পোশাক খাতের জন্য এটি যথেষ্ট স্বস্তি কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। অনেকে মনে করছেন, চুক্তির মূল অর্জনের চেয়ে প্রধান উপদেষ্টার পোস্টে ড. ইউনূসের নেতৃত্ব ও আলোচনা দলের প্রশংসা এবং স্তুতিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে—যেন এটিই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সাফল্য, শুল্ক হ্রাস নয়। উল্লেখ্য, এই চুক্তি জাতীয় নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
