ইউক্রেনীয় যুদ্ধশরণার্থী থেকে জাপানে সুমো চ্যাম্পিয়ন: আঅনিশিকির ইতিহাস গড়া জয়

ইউক্রেনীয় যুদ্ধশরণার্থী থেকে জাপানে সুমো চ্যাম্পিয়ন: আঅনিশিকির ইতিহাস গড়া জয়
শেয়ার করুন

 

২০২২ সালে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সময় দানাইলো ইয়াভহুসিশিন জাপানে আশ্রয় নেন। তিন বছর পর তিনি এখন জাপানে পরিচিত এক নাম। কারণ, রোববার তিনি প্রথমবারের মতো সুমো চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছেন।

রিংয়ে আঅনিশিকি নামে পরিচিত এই সুমো কুস্তিগীর তার ১২তম জয় ও ৩ পরাজয়ের রেকর্ড নিয়ে ফুকুওকা কোকুসাই সেন্টারে সম্রাটের কাপ জিতে নেন।

টুর্নামেন্টের ফল নির্ধারিত হয় প্লে-অফে, যেখানে তিনি সর্বোচ্চ পদধারী ইয়োকোজুনা হোশোরিউকে হারান। এটি তাদের চতুর্থ লড়াই, এবং প্রতিবারই জিতেছেন আঅনিশিকি।

শেষ দিনে হোশোরিউ, তার সহ-ইয়োকোজুনা ওনোসাতো এবং আঅনিশিকি—তিনজনই সমান অবস্থায় ছিলেন। কিন্তু ওনোসাতো কাঁধের ইনজুরির কারণে লড়াই থেকে সরে দাঁড়ান। ফলে হোশোরিউ জয়ী হন।

এ অবস্থায় আঅনিশিকি যদি কোটোজাকুরাকে হারাতে না পারতেন, তাহলে হোশোরিউ তার তৃতীয় শীর্ষ বিভাগীয় শিরোপা নিশ্চিত করতেন। তবে আঅনিশিকির চমৎকার উচিমুসো কৌশলে জয় আসে এবং প্লে-অফ নিশ্চিত হয়।

সংক্ষিপ্ত বিরতির পর তিনি পিছন দিক থেকে ফেলে (রিয়ার থ্রো) হোশোরিউকে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেন।

জয়ের পর আঅনিশিকি বলেন, “এটাই আমার প্রথম প্লে-অফ। আমি শুধু ঠিকভাবে শেষ করতে চেয়েছি, যেন কোনো আফসোস না থাকে। সবসময় একটু নার্ভাস থাকি, কিন্তু আজ নিজের স্টাইলে মনোযোগ দিতে পেরেছি।”

জয়োৎসবে সাক্ষাৎকারের সময় তাকে জানানো হয়, বুধবার জাপান সুমো অ্যাসোসিয়েশনের বোর্ডের বিশেষ বৈঠকে তার ওজেকি পদে পদোন্নতি আলোচনা হবে। অনুমোদিত হলে তিনিই দ্রুততম সময়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদে উন্নীত হওয়া কুস্তিগীর হবেন।

গত মাসেই ইতিহাস তৈরি করেছেন আঅনিশিকি—খেলার নিচের বিভাগ থেকে শুধু ১৩টি টুর্নামেন্টে উঠে তিনি সেকিওয়াকে (তৃতীয় সর্বোচ্চ পদ) হয়েছেন, যা দ্রুততম রেকর্ড। এখন প্রায় নিশ্চিত, জানুয়ারির নতুন বছরের প্রতিযোগিতাতেই তিনি ওজেকি হবেন।

এর আগে ইউরোপের তিনজন সুমো কুস্তিগীর ওজেকি পদ পেয়েছেন—বুলগেরিয়ার কোটোশু কাটসুনোরি, এস্তোনিয়ার বারুতো কাইতো এবং জর্জিয়ার তচিনোশিন সুয়োশি।

দ্রুত সাফল্য পেলেও আঅনিশিকি মনে করেন—এটাই কেবল শুরু।

তিনি বলেন, “ওজেকির ওপরে আরেকটি পদ আছে। আমি সর্বোচ্চটি পাওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাব।”

ইয়োকোজুনা হতে হলে টানা দুই টুর্নামেন্ট জিততে হয় অথবা সমমানের ভালো পারফরমেন্স দেখাতে হয়—যেমন একবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া, অন্যবার রানার-আপ হওয়া, এবং আগের তিন টুর্নামেন্টেও ধারাবাহিক ভালো ফল করা।

এখনও পর্যন্ত কোনো ইউরোপীয় কুস্তিগীর কখনও ইয়োকোজুনা হতে পারেননি।

Visited 5 times, 1 visit(s) today