৩০০ নৌসেনাসহ মার্কিন ডেস্ট্রয়ার বাংলাদেশে: ইন্দো-প্যাসিফিকে মার্কিন আধিপত্যের শুরু!

৩০০ নৌসেনাসহ মার্কিন ডেস্ট্রয়ার বাংলাদেশে: ইন্দো-প্যাসিফিকে মার্কিন আধিপত্যের শুরু!
শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদক

দীর্ঘ ৫৪ বছর পর আজ মার্কিন নৌবাহিনীর একটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর ফেলেছে। এই ঘটনা দুই দেশের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলে দাবি ইউনূস সরকারের ঊর্ধ্বতনদের। একে শুভেচ্ছা সফর বলা হলেও নেপথ্য কারণ এখনো অজানা। সর্বত্র চলছে ঢাক ঢাক গুড়গুড়, ঝেড়ে কাশছেন না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

তথ্য বলছে, মার্কিন নৌবাহিনীর অ্যারলাই বার্ক-ক্লাসের অত্যাধুনিক জাহাজটি ইউএসএস ফিৎসজেরাল্ড আজ সকালে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বন্দরের কাছে পৌঁছে নোঙর ফেলে। জাহাজটিতে প্রায় ৩০০ জন নৌসেনা সদস্য রয়েছে, যারা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সঙ্গে যৌথ অনুশীলন এবং বন্দর নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনায় অংশ নেবে।

এই সফরের মূল উদ্দেশ্য বলা হচ্ছে, বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে মেরিন সিকিউরিটি জোরদার করা, জলদস্যুতা প্রতিরোধ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা বাড়ানো।

আজ ৮ই অক্টোবর, বুধবার জাহাজটি চট্টগ্রাম নৌ সীমায় প্রবেশ করলে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ বানৌজা আবু উবাইদাহ তাদের অভ্যর্থনা জানায়। এ সময় দুই দেশের নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা পরস্পরের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন।

এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে এই সফরটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্কে উত্তেজনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের এমন সরাসরি সফর হয়নি। সবশেষ ১৯৭১ সালে একটি মার্কিন জাহাজ পাকিস্তানকে সহযোগিতা করতে বঙ্গোপসাগরে এসেছিল, যা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিতর্কিত ছিল।

২০০৭ সালে সাইক্লোন সিডরের পর মার্কিন নৌবাহিনীর একটি অ্যাম্ফিবিয়াস অ্যাসল্ট শিপ (ইউএসএস কুডা) বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে ত্রাণ সাহায্য করেছিল, কিন্তু তা বন্দরে নোঙর ফেলেনি। গত ৫৪ বছরে এমন কোনো ডেস্ট্রয়ারের সরাসরি বন্দরে ভেড়েনি, যা আজকের ঘটনাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মুখপাত্র কমোডোর মাহফুজ আলম বলেন, এই সফর দুই দেশের মধ্যে বিশ্বাসের প্রতীক। আমরা যৌথভাবে মেরিন পেট্রোলিং এবং ডিজাস্টার রেসপন্সে প্রশিক্ষণ নেব।”

মার্কিন নৌদলের কমান্ডার টিমোথি শ্যানলি বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের অংশীদারিত্ব ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।”

আইএসপিআরের তথ্যমতে, এই সফর দুই দেশের নৌ-সদস্যদের জন্য একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে, যেখানে তারা পেশাগত উৎকর্ষ ও আধুনিক নৌপ্রযুক্তি বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন। আগামী ১০ই অক্টোবর বাংলাদেশের জলসীমা ত্যাগ করবে ফিৎসজেরাল্ড।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সামরিক সহযোগিতা বেড়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে মার্কিন কোস্ট গার্ড বাংলাদেশের বন্দর নিরাপত্তা উন্নয়নে সহায়তা দিয়েছে। সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রামে ১২০ জন মার্কিন সেনা অফিসার যৌথ অনুশীলনে অংশ নিয়েছে।

এই সফরটি সেই ধারাবাহিকতারই অংশ, যা চীন-ভারতের মধ্যে অঞ্চলীয় প্রভাবের প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে।

জানা গেছে, জাহাজটি ২৪ ঘণ্টা বন্দরে থাকবে, এর মধ্যে নৌসেনারা স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে এবং একটি ওপেন-ডেক ইভেন্ট আয়োজন করবে। এই ঘটনা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্কে নতুন গতি যোগ করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

Visited 8 times, 1 visit(s) today