ভারতীয় দলের ‘হ্যান্ডশেক বয়কট’ ক্রিকেট জগতে ঝড় তুলেছে, সুর্যকুমার যাদব ব্যাখ্যা করলেন কারণ

ভারতীয় দলের ‘হ্যান্ডশেক বয়কট’ ক্রিকেট জগতে ঝড় তুলেছে, সুর্যকুমার যাদব ব্যাখ্যা করলেন কারণ
শেয়ার করুন

স্পোর্টোস ডেস্ক

এশিয়া কাপ ২০২৫-এর সুপার ১২ ম্যাচে পাকিস্তানকে ৭ উইকেটে হারিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট দলের জয় তো অবিস্মরণীয়ই হয়েছে, কিন্তু খেলা শেষে ঘটনাচক্রে সৃষ্টি হয়েছে এক অভূতপূর্ব বিতর্ক।

পাহেলগামে পাকিস্তানি জঙ্গিদের হামলায় নিহত ২৬ জনের প্রতি জয় উৎসর্গ করে ভারতীয়রা প্রতিক্রিয়াস্বরূপ টসের সময় এবং খেলা শেষে পাকিস্তানি দলের সঙ্গে হাত না মেলানোর ঘটনা ক্রিকেট দুনিয়াকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। ভারতীয় অধিনায়ক সুর্যকুমার যাদব এই সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করে বলেছেন, “কিছু বিষয় খেলার আচরণের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ।”

দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে রোববার (সেপ্টেম্বর ১৪) অনুষ্ঠিত এই উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে পাকিস্তান প্রথমে ব্যাট করে ১৫৯ রানের জন্য অলআউট হয়। ভারত ১৬.৩ ওভারে ১৬০ রানের লক্ষ্য অর্জন করে জয় ছিনিয়ে নেয়। সুর্যকুমার যাদব (৫৮ নট আউট) এবং শিবম দুবে (৩৬ নট আউট) অপরাজিত থেকে ভারতকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যান।

কিন্তু জয়ের পর ঐতিহ্যগত হ্যান্ডশেকের সময় কোনো ভারতীয় খেলোয়াড় ড্রেসিং রুম থেকে নেমে না এসে পাকিস্তানিদের সঙ্গে হাত না মেলানোর দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। এমনকি টসের সময়ও অধিনায়ক সুর্যকুমার পাকিস্তান ক্যাপ্টেন সালমান আগার সঙ্গে হাত না মেলিয়ে কয়েন টস করে নেন।

ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে সুর্যকুমার যাদব এই ঘটনার কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, “আমরা টিম হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা খেলতে এসেছিলাম এবং আমরা উত্তর দিয়েছি। কিছু বিষয় খেলার আচরণের (স্পোর্টসম্যানশিপ) চেয়েও এগিয়ে। আমরা এই জয় অপারেশন সিঁদুরে অংশগ্রহণকারী সশস্ত্র বাহিনী এবং পাহেলগাম টেরর অ্যাটাকের শিকার পরিবারগুলোর প্রতি উৎসর্গ করছি। তারা আমাদের অনুপ্রাণিত করে এবং আমরা মাঠে তাদের জন্য আরও কারণ তৈরি করব যাতে তারা হাসতে পারে।”

সুর্যকুমার আরও যোগ করেন, “আমাদের সরকার এবং বিসিসিআই-এর সঙ্গে এতে সমন্বয় ছিল।” এই ঘটনার পটভূমি হলো এপ্রিল ২২ তারিখে জম্মু ও কাশ্মীরের পাহেলগামে পাকিস্তানি জঙ্গিদের হামলায় ২৬ জন নিহত হন। এর প্রতিক্রিয়ায় ভারত ৭ মে ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালিয়ে পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে নয়টি টেরর ক্যাম্পে হামলা চালায়। এই ঘটনা দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলে এবং ক্রিকেট মাঠেও প্রভাব ফেলে।

ম্যাচের আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতীয় ফ্যানরা বয়কটের দাবি জানায়, কিন্তু ভারতীয় সরকার মাল্টিল্যাটারাল ইভেন্টে অংশগ্রহণের অনুমতি দেয়। পুরো ম্যাচে ভারতীয় এবং পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের মধ্যে কোনো কথাবার্তা বা ইন্টারঅ্যাকশন দেখা যায়নি, যা ক্রিকেটের ঐতিহ্য ভঙ্গ করে।

পাকিস্তান ক্যাপ্টেন সালমান আগা এতটাই ক্ষুব্ধ হয়ে যান যে তারা পোস্ট-ম্যাচ প্রেজেন্টেশন স্কিপ করে চলে যান। এশিয়া কাপের রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফটের প্রতিক্রিয়া এখনও অপেক্ষমাণ। ক্রিকেট বিশ্লেষকরা এই ঘটনাকে ‘অভূতপূর্ব’ বলে অভিহিত করেছেন।

প্রাক্তন ভারতীয় কোচ গৌতম গম্ভীর বলেন, “এই জয় সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি সমর্থন প্রকাশ করে। আমরা খেলার মাধ্যমে উত্তর দিয়েছি।” কিন্তু কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, এটি খেলার চেতনার বিরুদ্ধে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এখনও কোনো অফিসিয়াল বক্তব্য দেয়নি, কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় পাকিস্তানি ফ্যানরা ভারতীয়দের সমালোচনা করছে।

এশিয়া কাপ ২০২৫-এ ভারতের এই জয় তাদের পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে রাখে, কিন্তু ‘হ্যান্ডশেক বয়কট’ ক্রিকেটের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যোগ করেছে। সুর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে ভারতীয় দল রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও মাঠে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, যা ফ্যানদের মনে গেঁথে যাবে।

Visited 13 times, 1 visit(s) today