ঢাকা, ২৯শে নভেম্বর- বাংলাদেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থা ১৪ বছর আগের পাঠ্যক্রমে ফিরে যাওয়ার পরবর্তী বছর নতুন বই ছাপানোর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে আগামী বছরে ছাপানো বইয়ের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ কোটি ১৬ লাখ, এবং ছাপার বাজেটও বৃদ্ধি পেয়েছে। অনিশ্চয়তায় পরেছে বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই পৌছে দেয়ার রেওয়াজ।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য এই বইগুলো ছাপানোর জন্য ৫০০ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছে। শুরুতে বই ছাপানোর জন্য ১২০০ কোটি টাকা বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছিল, তবে এখন তা বেড়ে ১৭৫০ কোটি টাকা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৩৫০ কোটি টাকা বেশি।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এবং শিক্ষা বোর্ড এই অতিরিক্ত খরচের কারণ হিসেবে ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে বেশি সংখ্যক বই থাকার বিষয়টি তুলে ধরেছে। এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ.কে.এম. রিয়াজুল হাসান জানিয়েছেন, পুরনো পাঠ্যক্রমে ফিরে যাওয়ার কারণে আগামী বছর ৯ কোটি ৫০ লাখ অতিরিক্ত বই ছাপাতে হবে।
গত দুই বছরে পাঠ্যসূচি নিয়ে এই নিয়ে ৩য় দফা পরীক্ষণ হতে যাচ্ছে। ১ম দফায়, ২০২৩ আলে নতুন শিক্ষাক্রম শুরু হলে এ নিয়ে ছাত্র শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। সেই পাঠ্যসূচিকে সরকার বাধ্য হয়ে ছোট করে আনতে। ২য় দফায়, আগস্টে নতুন সরকার গঠনের পরে শিক্ষা ব্যাবস্থায় পাঠ্য সুচীর একটা সংমিশ্রন করা হয়। এবছর সব স্কুলেই পুরানো পাঠ্যসূচি ও নতুন পাঠ্যসূচীর সংমিশ্রনে বার্ষিক পরীক্ষা দিচ্ছে ছাত্রছাত্রীরা। আগামী শিক্ষা বছর থেকে আবার ১৪ বছর পুরানো পাঠ্যসূচিতে ফিরে গেলে, সেটা হতে যাচ্ছে ৩য় দফা পরীক্ষণ।

এছাড়া দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন বই ছাপানোর কারণে খরচ আরো বাড়বে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, “আমাদের বই ছাপানোর খরচ প্রথমে ১২০০ কোটি টাকা নির্ধারিত ছিল, তবে বইয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি ও অন্যান্য কারণে খরচ বাড়াতে হচ্ছে। এনসিটিবি ৭৮৩ কোটি টাকা বাজেট বাড়ানোর প্রস্তাব দিলেও ৫৫০ কোটি টাকা অনুমোদিত হয়েছে।”
২০২৪ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার জন্য ২০২৩ সালের শেষে ৩০ কোটি ৭০ লাখ ৮৩ হাজার কপি বই ছাপানো হয়েছিল, যার জন্য খরচ হয়েছিল ১৪০০ কোটি টাকা। এই হিসাবে, আগামী বছর খরচ হবে ৩৫০ কোটি টাকা বেশি।
এনসিটিবি চেয়ারম্যান প্রকাশকদের বিরুদ্ধে ‘সিন্ডিকেট’ করে বইয়ের খরচ বাড়িয়ে দরপত্র জমা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন, যা ব্যয়ের বৃদ্ধির আরেকটি কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন বছরের প্রথম দিনেও শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার জন্য কাজ করছে, এবং ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বই ছাপানোর কাজ শেষ করতে চায়। তবে বই পরিমার্জনসহ বিভিন্ন কারণে বই ছাপানোর কাজ কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। এখনও অনেক বইয়ের পাণ্ডুলিপি চূড়ান্ত হয়ে প্রকাশনা কোম্পানির হাতে পৌঁছায়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সব শ্রেণির শিক্ষার্থীরাই বছরের শুরুতে বই পাবে কিনা, তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
এনসিটিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে ৪১টি প্রকাশনা কোম্পানি প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির বই ছাপানোর কাজ পেয়েছে। চতুর্থ শ্রেণি থেকে অন্যান্য শ্রেণির বই ছাপানোর দরপত্রও চূড়ান্ত হয়েছে। নবম শ্রেণির বইয়ের কাজের দরপত্র এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
